শিশুমনের চিরসবুজ বন্ধু: রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইয়ের ১০১তম জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা
//মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন//
বাংলা শিশু সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং শিশু-কিশোরদের প্রিয় ব্যক্তিত্ব রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই-এর ১০১তম জন্মদিন আজ। এই বিশেষ দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করছি সেই মহান মানুষটিকে, যিনি তাঁর সাহিত্য, সাংবাদিকতা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিশুদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।
রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই শুধু একজন শিশু সাহিত্যিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন শিশুদের একজন নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিশুদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশের উপর। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন শিশুদের সৃজনশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় পাতা ‘কচিকাঁচার আসর’-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দক্ষ সম্পাদনা ও সৃজনশীল নেতৃত্বে এই পাতাটি শিশুদের জন্য এক অনন্য সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মঞ্চে পরিণত হয়। দেশের নানা প্রান্তের শিশু-কিশোররা এখানে লিখতে, ভাবতে এবং নিজেদের প্রকাশ করতে অনুপ্রাণিত হতো। অসংখ্য নবীন লেখকের হাতেখড়ি হয়েছে এই পাতার মাধ্যমে।
এই অভিজ্ঞতা ও স্বপ্ন থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন কচি কাচার আসর যা পরবর্তীতে একটি শক্তিশালী শিশু-কিশোর সংগঠনে রূপ নেয়। এই সংগঠনের মাধ্যমে শিশুরা সাহিত্যচর্চা, আবৃত্তি, গান, নাটকসহ নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় এবং নিজেদের প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্র খুঁজে পায়।
তাঁর সাহিত্যকর্ম ছিল সহজ, প্রাণবন্ত এবং শিক্ষণীয়। তিনি শিশুদের উপযোগী ভাষায় নৈতিকতা, দেশপ্রেম, সততা এবং মানবিকতার মূল্যবোধ তুলে ধরেছেন। তাঁর লেখা শিশুদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের চিন্তা করতে শেখায় এবং ভালো মানুষ হওয়ার প্রেরণা জোগায়।
দাদাভাইয়ের ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত স্নেহময় ও আন্তরিক। তিনি শিশুদের সঙ্গে মিশে যেতেন একেবারে আপনজনের মতো। তাই তিনি শুধু একজন লেখক নন, ছিলেন শিশুদের হৃদয়ের মানুষ—প্রিয় ‘দাদাভাই’।
১০১তম জন্মদিনে দাঁড়িয়ে আমরা তাঁর অবদান নতুন করে উপলব্ধি করি। বর্তমান সময়ে যখন বাংলাদেশের শিশুদের মনন ও সংস্কৃতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন তাঁর আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের জন্য পথনির্দেশক। তাঁর দেখানো পথে চলেই আমরা একটি আলোকিত, মানবিক ও সৃজনশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারি।
আজকের দিনে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইয়ের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। তাঁর স্মৃতি, তাঁর কর্ম এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত কচি কাচার আসর চিরকাল আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেবে জ্ঞান ও আলোর দীপ্তি।
✍🏿 লেখক
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী mahbubhossain786@yahoo.com
কমেন্ট বক্স